সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সংখ্যা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। সম্প্রতি দুই বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সৌদিতে এ বছরের প্রথম ৬ মাসে ৫৯ বিদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মাদক সংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড, বিদেশি নাগরিকদের ওপর এ সর্বোচ্চ সাজা কার্যকরের প্রভাব ও বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। নির্যাতনের অভিযোগ, আইনজীবী পাওয়ার সীমাবদ্ধতা ও আসামিপক্ষের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দেশটির বিচারব্যবস্থা ও মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের পদ্ধতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দেশটির আইন কী বলে, আদালতে কী ঘটে তা নিয়ে আজ প্রকাশিত হলো প্রথম পর্ব।

সেপ্টেম্বর ২০২৫। সৌদি আরবের কারাগারে চার মিসরীয় বন্দী শুনলেন, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নাকি তাঁদের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন; মামলা নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। কারা কর্তৃপক্ষই তাঁদের এ আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু এর অল্প সময় পরই, কোনো আগাম খবর ছাড়া, চারজনেরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

বাংলাদেশের পাঠকের কাছে এ চিত্র এখন ভালোভাবেই পরিচিত হয়ে উঠেছে। পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড সম্প্রতি কার্যকর হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের (ইএসওএইচআর)’ হিসাবে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সৌদি আরবে অন্তত ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এ দুজন সেই হিসাবের বাইরে। ওই ছয় মাসে কত বাংলাদেশির সাজা কার্যকর হয়েছে, তা জানা যায়নি।

সৌদি আরব বহু বছর ধরেই বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দেশগুলোর একটি। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মতো এবারও দেশটি বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়, কোন আইনে, কার বিবেচনায় আর কেমন আদালতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড ঠিক হয়? আর যুবরাজের বারবার দেওয়া সংস্কারের আশ্বাসই–বা গেল কোথায়? খোঁজা যাক সে উত্তর:


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *